
গত দুই জন্মদিন একেবারেই ভুলে যাওয়ার মতো গেছে। মনে মনে হয়তো ঠিক করে রেখেছিলেন, ট্রফি নিয়েই জন্মদিন উদ্যাপন করবেন। কিন্তু দুবারই একটুর জন্য ট্রফিটা ছোঁয়া হয়নি, ফাইনালে হয়েছে স্বপ্নভঙ্গ। আবারও শিরোপার হাতছানি দিয়ে কাল গেল মেসির আরেকটি জন্মদিন। আগামী পরশু কোপার ফাইনালে চিলির মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। এবার কি জন্মদিনের বহুকাঙ্ক্ষিত উপহারটা পেয়ে যাবেন?
২৯তম জন্মদিনের আগে অবশ্য অন্য এক মেসিকেই দেখা গেল। এমনিতে মাঠে বা মাঠের বাইরে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারান না। এদিন কিন্তু আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন নিয়ে স্পষ্টতই নিজের বিরক্তি প্রকাশ করলেন। বিমানের ফ্লাইট নিয়ে ভজকটের কারণেই মেসি মেজাজটা ঠিক রাখতে পারেননি।
এই কোপায় বেশ কয়েকবারই আর্জেন্টিনা দল বিমান নিয়ে ঝামেলায় পড়েছে। পরশু সর্বশেষ বিমান-জটটা ফাইনালের ভেন্যুর উদ্দেশে যাত্রা করার সময়। সোমবার ভোরে নিউ জার্সিতে চিলির সঙ্গে ফাইনাল। হিউস্টনে সেমিফাইনাল খেলে নিউ জার্সির উদ্দেশে বিমানে উঠতে গিয়েই ভোগান্তিতে পড়ে আর্জেন্টিনা দল। গত ম্যাচে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাওয়া মেসি এই অব্যবস্থাপনা একেবারেই মেনে নিতে পারেননি!
বিমানে বন্ধু সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে ছবি তুলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়েছেন মেসি। ছবির বর্ণনায় লিখেছেন, ‘আরও একবার বিমানের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাত্রা শুরুর জন্য। এএফএর, নাকি ঈশ্বরের কারণে এই দুর্ভোগ?’
এএফএ অবশ্য দাবি করেছে, এতে তাদের কোনো হাত নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেই ঠিক সময়ে প্লেন ছাড়ছিল না। তা ছাড়া দলগুলোর ভ্রমণ, আবাসন ও অনুশীলন-সুবিধা দেখার দায়িত্ব আয়োজকদের। অব্যবস্থাপনার দায়িত্বও আয়োজকদেরই নিতে হবে।
তবে মেসি আপাতত এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইবেন। ফাইনাল জেতার সঙ্গে তো আরেকটা অর্জনও হাতছানি দিচ্ছে। পেলে, ম্যারাডোনা কখনো কোপার শিরোপা জেতেননি, মেসির সামনে দুজনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ। ১৯৭৯, ১৯৮৭ ও ১৯৮৯—এই তিনবার কোপায় খেলেও শূন্য হাতে ফিরেছেন ম্যারাডোনা। ১৯৫৯ সালের কোপায় খেলেছেন পেলে। ব্রাজিল কিংবদন্তিরও জেতা হয়নি শিরোপা! এএফপি, রয়টার্স।