
নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত হাসপাতাল থেকে পুলিশি পাহারায় বাসায় ফিরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কড়া পুলিশি প্রহরায় তাঁকে নারায়ণগঞ্জের নগর খানপুর এলাকার ভাড়া বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মালেক জানান, প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত নগরীর খানপুরে যে বাড়িতে ভাড়া থাকতেন, সেই বাড়িতেই উঠেছেন। তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ আছেন। তাঁর নিরাপত্তার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আওয়ালের নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জের পুলিশের কাছে দেওয়া হয়। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ তাঁকে সরাসরি নগরীর খানপুর এলাকার বাড়িতে নিয়ে যায়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীকে মারধর ও ‘ধর্ম নিয়ে কটূক্তির’ অভিযোগে জাতীয় পার্টির স্থানীয় সাংসদ এ কে এম সেলিম ওসমান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করানো হয়। ওই দিন নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। পরে শ্যামল কান্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি।
এ ঘটনায় সাংসদ সেলিম ওসমানসহ জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট। এ ঘটনা খতিয়ে দেখতে শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ঢাকা অঞ্চলের পরিচালককে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে দেওয়া হয়।
কিন্তু শ্যামল কান্তির বিরুদ্ধে ‘ধর্মীয় অবমাননার’ অভিযোগের সত্যতা পায়নি সরকারের তদন্ত কমিটি। কমিটি বলেছে, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি ওই শিক্ষককে অবৈধভাবে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল। এ জন্য তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি বাতিল এবং ওই প্রধান শিক্ষককে নিজের পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এরপর শ্যামল কান্তির স্ত্রীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ মে বেলা ১১টার দিকে শ্যামল কান্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় পাঠানো হয়।
খানপুরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের চিকিৎসা তত্ত্বাবধায়কের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) সিদ্দিকুর রহমান বলেছিলেন, শ্যামল কান্তির স্ত্রীর আবেদনে বলা হয়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি তাঁর স্বামীকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে নিতে চান। পরে তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।